2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

হযরত খাজা বু-আলী শাহ কালান্দারের আত্মদর্শন

Price:
৳500    ৳ 425.00

পেইজ:   398

ওজন:   0.3


Charge:
ঢাকা সিটির মধ্যে ডেলিভারি চার্জ 59 টাকা
ঢাকা সিটির বাইরে ডেলিভারি চার্জ 99 টাকা

                 হযরত খাজা বু-আলী শাহ কালান্দারের পরিচয়

হযরত খাজা বু-আলী শাহ কালান্দার (রহ.) সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মগত নাম আলাউদ্দীন। লকব বা রূপক নাম আবু-আলী। তাঁর লকব কালান্দার হওয়ায় তাঁকে বু-আলী কালান্দার নামেই সবাই সম্বোধন করতেন। সারা দুনিয়ায় তিনি বু-আলী শাহ্ কালান্দার নামে পরিচিত ও সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি পূর্ব পাঞ্জাবের পানিপথ নামক স্থানে ৬০২ মতান্তরে ৬০৫ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আবু হানিফার বংশধর ছিলেন। তাঁর পিতার নাম ফখর আলাউদ্দীন। তাঁর লকব ছিল 'সালার'। ফখর আলাউদ্দীন কেরমান প্রদেশে ছয়শত হিজরীর প্রথম দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সময়ের বিখ্যাত অলিয়ে কামেল হযরত শাহ সুফি কিরমানির নিকট তিনি বায়াত গ্রহণ করেন। মুর্শিদের খেদমতে নিজকে নিয়োজিত করেন। মুর্শিদের নিকট ইলমে লাদুন্নীর বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করে তিনি আধ্যাত্মবাদের উচ্চশিখরে আরোহণ করেন। মুর্শিদ কেবলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর আপন মেয়ে বিবি হাফেজার সাথে সালার ফখর উদ্দীনের বিবাহ দেন। এর কিছুদিন পর তিনি কিরমান থেকে পানিপথে আগমন করেন এবং মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত এখানেই বসবাস করেন। তিনি পানিপথে আগমনের পর হযরত খাজা বু-আলী শাহ কালান্দার (রহ.) জন্মগ্রহণ করেন।

জন্মের পর থেকেই খাজা বু-আলী শাহ কালান্দারের সুফি চেতনা ও স্রষ্টা প্রেমের প্রকাশ পেতে থাকে। যখন তিনি শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণ করেন। তখন তাঁর পিতা তাঁকে পানিপথ শহরেই প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য মাওলানা সিরাজ উদ্দীনের নিকট পাঠান। শিক্ষকের নিকট তিনি পবিত্র কোরআন হেফজ করেন। এরপর তিনি দিল্লিতে চলে আসেন। দিল্লিতে তিনি কোরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে থাকেন। যে সমস্ত পীর-মাশায়েখের নিকট তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম কয়েক জনের নাম হল ওলিয়ে কামেল বাবা শাহ কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকীর খলিফা হযরত শাহ শায়েখ শাহাবউদ্দীন এবং ইমাম ফখরউদ্দীন রাজীর শাগরেদ মাওলানা নিজামউদ্দীন মুশকী, মাওলানা রোকনউদ্দীর সামনীর নাম উল্লেখযোগ্য।


এখানে যুবক বয়সে হযরত খাজা বু-আলী শাহ্ কালান্দারের পরহেযগারী ও সুফি মনের পরিচয় প্রকাশ পেতে থাকে। তিনি তাঁর ওস্তাদ ও বিভিন্ন প্রখ্যাত সুফিদের সংস্পর্শে তরিকতের উচ্চতর জ্ঞানের মদিরা পান করার সুযোগ পান। কালে বু-আলী শাহ কালান্দারের নাম ও খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সুফি জগতের একজন প্রসিদ্ধ শায়খ হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন। উল্লেখ থাকে যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশ থেকে বহু আলেম মাশায়েখগণ বু-আলী শাহ কালান্দারের নিকট আগমন করতেন এবং তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন। ঐ সময় দিল্লি যেমন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কেন্দ্র বিন্দু ছিল, তেমনি তার সাথে সাথে দীন ইসলাম প্রচারের জন্যও বিখ্যাত স্থান হয়ে ওঠে।

হযরত খাজা বু-আলী শাহ কালান্দার (রহ.) দীর্ঘ ১২ বৎসর ধরে দিল্লির কুয়াতুল ইসলামের ছাত্রদেরকে পাঠদান ও জিকির আযকারে কাটান। এ সময় তিনি রিয়াজত মোশাহাদা ও ধ্যান মগ্নতায় রাতদির অতিবাহিত করেন। জন্মগতভাবে সুফি পরিবারের সন্তান হওয়াতে তিনি প্রাথমিক জীবনেই কোরআন, হাদিস ও সুফি তালিম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার হাতেই তাঁর পর্যাপ্ত জ্ঞানের বিকাশ সাধন হয়। এবং তিনি তাঁর পিতার নিকট বায়াত গ্রহণ করেন। এরপরেও তিনি কয়েকজন ওলিয়ে কামেলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাঁদের কাছ থেকে এলমে লাদুন্নীর ফয়েজপ্রাপ্ত হন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে সুফি ধ্যান-জ্ঞানের উচ্চতর পথের সন্ধান লাভ করেন। যাঁদের সাথে তিনি যোগাযোগ রাখতেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন জগদ্বিখ্যাত সুফিয়ে কামেল হযরত খাজা কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকী, সৈয়দ খেযারামী এবং সৈয়দে বাহারী (কালান্দার) এই ওলিদের সাথে তিনি সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। যদিও তাঁদের নিকট তিনি বায়াত গ্রহণ করেননি বা তাদের নিকট মুরিদ হননি। এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন যে, আমি বিশেষ এক মাধ্যমে বেলায়েতের শাহানশাহ হযরত আলী (ক.)-এর কাছ থেকে প্রভূত ফায়েজ ও তাঁর অনুগ্রহ পেয়ে থাকি। পরবর্তীতে লোকমুখে জানা যায় তিনি হযরত বাবা শেখ ফরিদ রহ (রহ.) নিকট বায়াত গ্রহণ করেন এবং সাধনার উচ্চ মাকানে আরোহণ করেন।

হযরত খাজা বু-আলী শাহ্ কালান্দার (রহ.) এশিয়া ও পারস্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। একসময় তিনি বিভিন্ন মক্তব ও মাদরাসায় শিক্ষকতায় নিযুক্ত হোন। শিক্ষকতা ছেড়ে হঠাৎ দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিভিন্ন অলিয়ে কামেলদের সাথে সাক্ষাৎ ও ইস্তেকালপ্রাপ্ত অলিয়ে কামেলদের মাজার

যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশ সফর করেন। জানা যায় এ সময় তিনি পারস্যের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত মাওলানা জালালউদ্দীন রুমি ও তাঁর পীর শামস্-ই-তাব্রীজ (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেন। যদিও এর কোন বস্তুনিষ্ঠ দলিল পাওয়া যায় না। তবুও বলা যায় যে তিনি অনেক দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রখ্যাত অলিয়ে কামেলদের মাজার ও অনেকের সক্ষাত লাভে


Contact Us:
Inside Dhaka:
2-3 working days
Outside Dhaka:
3-5 working days
Cash on Delivery :
Available
Refund Rules:
Within 7 DaysView Policy
Payment: