আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষণা করেছেন।
যুগের বিবর্তনে মানুষ তাদের যোগ্যতার ইতিহাস ভুলে যায়। এই ভুলে যাওয়ার কারণে রয়েছে ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে না ধরা। প্রয়োজনীয় বিষয়কে সামনে না এনে যখন আনা হয় অপ্রয়োজনীয় বিষয়, তখন সেই প্রয়োজনীয় বিষয়টি বিলুপ্তির পথে হারিয়ে যেতে থাকে। সেই বিয়য়টি কিতাবের পাতায় থাকলেও মানুষের সম্মুখে তা আর আলোচিত হয় না। ফলে মানুষ সেই প্রয়োজনীয় বিষয়টিকেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করে। ফলশ্রুতিতে ঘটনা তখন এই দ্বাড়ায় যে, সেই প্রয়োজনীয় বিষয়টি কারো সম্মুখে উপস্থাপন করলে মানুষ তা আর গ্রহণ করতে চায় না, কেননা তাদের মন মগজে অপ্রয়োজনীয় বিষয়টি স্থান করে নিয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় বিষয়টিকে বিশ্বাস না করে প্রচার করে যে, ইহা একটি পৃথক শ্রেণীর মতবাদ বা আকিদা। ঠিক গাদীরে ঘুমের ঘটনার অবস্থাও সেই রকম। গাদীরে খুমের ঘটনা হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস গ্রন্থের পাতায় সীমাবদ্ধ রয়েছে, প্রচার ও প্রসার লাভ করতে পারেনি। কেননা যুগ যুগ ধরে ইহাকে অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলে প্রচার করা হয়েছে। আর যারা এই সত্যকে প্রচার করতে চেষ্টা করেছে তাদেরকে একটি পৃথক শ্রেণীর লোক বলে অপবাদ দিয়ে ক্ষান্ত করার চেষ্টা করেছে।
আসলে দোষটা সাধারণ মানুষের নয়। কেননা সাধারণ মানুষকে জ্ঞানী সমাজ যা বুঝিয়েছে তারা তাই বুঝেছে। এ বিষয়ে একটি গল্প মনে পড়ে গেল। এক লোক দিন মুজুরীর কাজ করে। মাঝে মাঝে বাজার থেকে বোয়াল মাছের ৪/৫ টুকরা ক্রয় করে আনে। আগে মাছের টুকরো কিনতে পাওয়া যেত। এভাবে টুকরো টুকরো বোয়াল মাছ ক্রয় করে যখন বাড়ীতে আসে তখন ছোট্ট মেয়েটি জিজ্ঞাসা করে বাবা। কি মাছ এনেছেন? বাবা বলে বোয়ালা মাছ এনেছি। এভাবে মান্য সধ্যেই টুকরো টুকরো বোয়ালা মাছ ক্রয় করে আনে। আর প্রতিবারই মেয়ে বাবাকে জিজ্ঞাসা করে বাধ্য। কি মায় এনেছেন? বাবা বলে বোয়াল মাছ। এতে ছোট্ট মেয়েটির ধারণা জন্মে বোয়াল আসলে দেখতে টুকরো টুকরো। যাহোক একদিন সেই দিন মজুর বাবার কিছু টাকা হলে বাজার হতে একটি আস্ত বোয়াল মাছ ক্রনয় করে আনলেন। তখন মেয়েটি বললো বাবা। এটা কি মাছ এনেছেন? বাবা বললো, বোয়াল মাছ। মেয়েটি বললো, বাবা। আপনি মিথ্যা কথা বললেন কেন? সারাজীবন বোয়াল মাছ দেখলাম টুকরো টুকরো আর আজ আপনি এটা এনে বললেন বোয়াল মাছ। আপনার কথা বিশ্বাস করতে পারলাম না, আপনি মিথ্যাবাদী। তো সেই মেয়েটিকে কোনভাবেই বোঝানো সম্ভব হলো না।
ঠিক তদ্রুপভাবে আমাদের অবস্থাও সেই রকম। আমরা সারাজীবন টুকরো টুকরো ইতিহাস শুনতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি, তাই আজ প্রকৃত ইতিহাস আমাদের কাছে মিথ্যাই মনে হয়। যেমনিভাবে মেয়েটি টুকরো টুকরো বোয়াল মাছ দেখে দেখে অভ্যস্থ, তাই তার কাছে প্রকৃত বোয়াল মাছ মিথ্যা মনে হচ্ছে। আমরাও সত্যকে মিথ্যার অবপাদ দিয়ে অবিশ্বাস করছি এবং পৃথক দলের মতবাদ বলে প্রচার করছি। অথচ একটিবারও বোঝার চেষ্টা করছি না যে, যে বিষয়টিকে মিথ্যা বলছি বা অবিশ্বাস করছি, তা হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত।
গাদীরে খুমের ঘটনাটি এতটাই বিশ্বস্থ ও প্রমাণিত যে, যুগে যুগে তা অসংখ্য সাহাবী হতে বর্ণিত হয়ে মুতাওয়াতির পর্যায়ে উপনিত হয়েছে। আর মুতাওয়াতির হাদিসের হুকুম হলো তা অকাট্যভাবে বিশ্বাস করা জরুরী ও এর উপর আমল করা ওয়াজিব এবং অস্বীকার করা কুফুরী। অথচ এরকম একটি বিষয় আমাদের সম্মুখে আজ বিলুপ্তির পথে। গাদীরে খুমের বিষয়টি তো আলোচনা হয়ই না, এমনকি কারো লেখনীতেও প্রকাশ পায় না। যদিও বা কেউ এই সত্যকে প্রকাশ করে তাহলে তাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ক্ষান্ত করার চেষ্টা করা হয় এবং প্রচার করা হয় এরা পৃথক কোন সম্প্রদায়ের।
