কিছু কথা
পরম করুণাময়ের অসীম কৃপায় 'জ্ঞান অমৃত' প্রথম খণ্ড পুস্তকখানি আপনাদের খেদমতে পেশ করলাম। অসীম স্রষ্টার জ্ঞানও অসীম। তাই আমরা এই মর জগতের ক্ষুদ্র সসীম মানুষ সসীম জ্ঞানে তাকে জানা-চেনা ভজন-পূজন করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। তিনি যত জ্ঞানী-গুণী, সাধক, নবী-রাহুল জগতে প্রেরণ করেছেন তাঁরা সবাই নিজেকে চেনা-জানার মাধ্যমে অসীম স্রষ্টার সম্পর্কে বাস্ত উপলব্ধি করেছেন। এই চেনা-জানার পথ বিভিন্ন কৰি, সাধক বিভিন্ন ভাবের মাধ্যমে প্রকাশ করে গেছেন, যেন মানুষ সেই পথ অনুসরণ করে নিজেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বা আশরাফুল মাখলুকাত হিসাবে প্রমাণ করতে পারে। তাই পাঠককূলের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ আপনারা যেন সূক্ষ্ম বিচার দৃষ্টিতে আমার এই নগন্য লেখাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। তাহলে হয়ত আমার এই নগন জীবনের দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা সফল হবে।
যাই হোক বইটি আপনাদের খেদমতে তুলে ধরতে পারায় আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং করুনাময়ের কাছে হাজার শোকর গুজার করি। তিনি যেন এই নগন্য গোলামের সাময়িক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাটুকু কবুল করে আমাকে তাঁর পরম সত্যের নিত্যতা সম্পর্কে জানার তৌফিক দান করেন। সেই সঙ্গে পাঠকবৃন্দের কাছে আরও একটি অনুরোধ জানাচ্ছি, বইটির ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে জানালে খুশী হব এবং পরবর্তীতে তার সংশোধনের ব্যবস্থার সুযোগ নিতে
পারবো।
আবারও পরম করুণাময়ের দরবারে বিনীত প্রার্থনা জানাই তিনি যেন আমাকে এবং সবাইকে তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দান করেন। আমিন ছুম্মা আমিন।
বিনীত
কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী
মুক্তি কিসে
এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের ভিতর স্রষ্টা আঠার হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেছে মানুষ নামক জীবটি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। মানুষ কেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ? আ মাধপুকার হতে কি এমন বৈশিষ্ট্য মানুষের মধ্যে বেশী আছে, যা মানুষ সুতীর শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে? মানব সুরতের মূল উৎস-ই বা কোথায় ?
প্রয়োজন।
কোরানুল করিমের ভাষায় বিশ্বের প্রতিটি জিনিসই স্রষ্টাকে স্মরণ করছে। ফেরেশতাগণও প্রতি মুহুর্তে স্রষ্টার নাম জপিছে, তার এবাদত করছে। তবে মানুষ আলাদাভাবে কি কর্ম করে বা কি গুণ মানুষের আছে যার কারণে মানুষ 'আশরাফুল মাখলুকাত' বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষিত হয়েছে ?
তার কারণ, মানুষ সৃষ্টির পূর্ণ বিকাশ, মানুষ স্রষ্টার আমানতধারী জীব তথা মানবাত্মা বহনকারী তথা কোরান বহনকারী জীব। স্রষ্টার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিগূঢ় প্রেমের। তাই আল্লাহ হাদিস কুদসীর মাধ্যমে বলেছেন, “আস ইনছানু সিররী ওয়া আনা সিররূহ" অর্থাৎ মানুষ আমার গোপন রহস্য এবং আমি মানুষের গোপন রহস্য তথা মানুষ মোহনায় আল্লাহপাকের পরিচয় সাব্যস্ত আছে বিধায় মানুষকে চিনলে আল্লাহকে চেনা যায়। এই রহস্য কিসের এবং কোন পথে এই রহস্যের মর্ম উপলব্ধি হবে, তা জানার জন্য প্রয়োজন সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। এই রহস্য সম্পর্কে একমাত্র তারাই বুঝতে পারেন যাদের “মান আরাফা নাফসাহ" হয়েছে তথা নিজ নফসকে যারা চিনতে পেরেছেন। সে চিনা জানার ক্রমান্বয়ের স্তর সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেন “আশ শারীয়ার আকওয়ালী, আন্তারিকাতু আফয়ালী, আল হাকিকাতু আহওয়ালী, আল মারেফার ইফরারী” অর্থাৎ নবী করিম (সাঃ) বলেছেন: শরীয়ত আমার বাক্য, আমার কর্ম, হাকিকত আমার অবস্থা এবং মারেফত আমার নিগূঢ় রহস্য (মিশকাতুল মাসাবী ৪র্থ খন্ড)।
क
এখন বুঝতে হবে ন কি ? এই মানব দেহ পঞ্চ ভূতের তৈরী। এই ে তাহলে নিজেকে চিনলে স্রষ্টাকে জানা হবে, তার রহস্য উদ্দাটিত হবে। মধ্যে আব, আতশ, খাক, বাত এই চত হইতে লোভ, মোহ,
#জ্ঞান অমৃত বা বেনজীর গীতি ১ম খণ্ড
#জ্ঞান অমৃত বেনজীর গীতি ২য় খণ্ড
#জ্ঞান অমৃত বেনজীর গীতি 3য় খণ্ড
