2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

দুর্বিন শাহ সমগ্র

Price:
৳550    ৳ 523.00

পেইজ:   432

ওজন:   1kg


প্রকাশক:   

ক্যাটাগরি:   

Charge:
ঢাকা সিটির মধ্যে ডেলিভারি চার্জ 59 টাকা
ঢাকা সিটির বাইরে ডেলিভারি চার্জ 99 টাকা

বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিংশ শতকে জন্ম নিয়েছিলেন মরমিগানের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব দুর্বিন শাহ (১৯২১-১৯৭৭)। তাঁকে 'জ্ঞানের সাগর' বলেই মানতেন ভক্তরা। ১৯৬৮ সালে শাহ আবদুল করিম ও দুর্বিন শাহ প্রবাসীদের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফর করেছিলেন। সেখানে এই কালজয়ী মরমিসাধকেরা গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের আপ্লুত করেছিলেন। তাঁদের গানের ধরন ও গায়কীতে মুগ্ধ হয়ে প্রবাসীরা শাহ আবদুল করিমকে 'রসের নাগর' এবং দুর্বিন শাহকে 'জ্ঞানের সাগর' উপাধি দিয়েছিলেন।

কেউ কেউ দুর্বিন শাহের পদাবলির সঙ্গে বাউলসাধক লালন শাহ (১৭৭৪- ১৮৯০)-এর পদাবলির তত্ত্বগত সাদৃশ্যও খুঁজে পান। গ্রামীণ মানুষের মধ্যে দুর্বিন শাহের পদাবলি ব্যাপক আবেদন সৃষ্টি করলেও সেগুলো নাগরিক সমাজে ততটা প্রচলিত ছিল না। অধুনা দুর্বিন শাহের গানের প্রতি সর্বত্র আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাউলদের সাধনভজন এবং এ-সম্পর্কিত পদাবলি তাঁদের গুপ্ত-সাধনার অংশবিশেষ। বাউলতত্ত্বসমৃদ্ধ গানগুলো কেবল নিজেদের মধ্যেই আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখতেন তাঁরা। তবে ব্যতিক্রম সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলের বাউল মতবাদে দীক্ষিতরা। তাঁরা এসব গান সাধারণ মানুষদের মনোরঞ্জনের জন্য মঞ্চেও পরিবেশন করতেন। ফলে গূঢ়তত্ত্বের এসব পদাবলির ভাবার্থের গভীরতা শ্রোতাদের কেউ কেউ বুঝতেন, আবার কেউ বুঝতেন না।

দুর্বিন শাহ এই বাউল-পরম্পরারই সার্থক উত্তরসূরি। ভবতোষ দত্তের অভিমত- 'বাউলকবিদের গানের রূপ চিরকাল একই রকম'। বাউলদের সম্পর্কে তাঁর আরও বক্তব্য-কবিদের ব্যক্তিগত জীবনের দ্বাপক্তব্যেও কোনও বিট বলে এবং কাবিদের তত্ত্বমূলক বলে তাদের বক্তব্যেও কোনও বিভিন্নতা নেই। করেকজন যথার্থ শক্তিমান বাউলকবির রচনা ছাড়া অন্যদের কনাকীর্তিও একই রকম। যাঁরা শক্তিমান তাঁদের রচনার সৌন্দর্য ভাষায়, বক্তব্যে কোনও বৈচিত্র্য নেই।

বস্তুত রচনাশৈলীর অংশত ভিন্নতা ছাড়া প্রায় সকল বাউলের গানের মানে বা অর্থ একই। এর বাইরে নন দুর্বিন শাহও। লালনের মাধ্যমে বাউলগান উচ্চতার শিখরে স্থান পেয়েছে। বলা যায়, লালনের একক প্রভাবেই তৎকালীন নদীয়া, বীরভূম, কুষ্টিয়া, যশোর, রাজশাহী অঞ্চলে বাউলগানের ধারা বেগবান ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। লালনেরও জন্মের আগে থেকে নীরবে-নিভৃতে সিলেট অঞ্চলে বাউল-ফকিরদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধারা যেভাবে বিকশিত হয়েছিল, কোনও কারণে সেটা গবেষকদের নজরে আসেনি। সপ্তদশ শতকে সিলেটের দীন ভবানন্দ ও সৈয়দ শাহনুর (১৭৩০-১৮৫৫)-সহ অন্যরা সে চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে মৌলভীবাজারে ফকির ইয়াসিন শাহ (১৮ শতকের শেষ দিকে জন্ম), সিলেটের জকিগঞ্জের শিতালং শাহ (১৮০০-১৮৮৯) হয়ে সে ধারা পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়টাতেই বাউল-

ফকিরদের আধিক্য বেড়ে যায়। দীন ভবানন্দ বা সৈয়দ শাহনুরদের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ফকিরি ও বাউলগানের স্বতন্ত্র একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। তার নেতৃত্বে ছিলেন একেক সময় একেক ফকির ও বাউলসাধক। এঁদের মধ্যে দৈখুরা, শিতালং শাহ, ইয়াসিন শাহ, শেখ ভানু (১৮৪৯-১৯১৯), হাসন রাজা (১৮৫৪-১৯২২), উকিল মুনশি (১৮৮৫-১৯৭৮), রশিদউদ্দিন (১৮৮৯-১৯৬৪), জালাল উদ্দীন খাঁ (১৮৯৪-১৯৭২), শাহ আবদুল করিম (১৯১৬-২০০৯), আবদুস সাত্তার (১৯১৮-১৯৩৯) এবং দুর্বিন শাহ বাউল-ফকিরির ইতিহাসে নমস্যজন।

প্রকৃতি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ফারাকের জন্য কুষ্টিয়া অঞ্চলের বাউলগানের সঙ্গে সিলেট তথা ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাউলগানে আচরণ ও রীতিনীতিতে কিছুটা ভিন্নতা দৃশ্য হলেও বাউল-দর্শনের মোটেই ব্যত্যয় ঘটেনি। কুষ্টিয়া- নদীয়া-বীরভূম-যশোর অঞ্চলে বাউল মতবাদে বিশ্বাসী অসংখ্য সাধকের সন্ধান পাওয়া গেলেও তাঁদের মধ্যে পদাবলি রচয়িতার সংখ্যা নেহায়েত হাতেগোনা।

Contact Us:
Inside Dhaka:
2-3 working days
Outside Dhaka:
3-5 working days
Cash on Delivery :
Available
Refund Rules:
Within 7 DaysView Policy
Payment: