ঐতিহ্য সংস্করণের ভূমিকা
আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ ।
মহান আল্লাহর অশেষ করুণায় 'তাসাউফ তরিকত উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ' বইটি আলোর মুখ দেখল। প্রায় একযুগ আগে ছারছীনা দরবারের তালিমি জলসায় পাঠ করার জন্য অতি অল্প সময়ের মধ্যে আব্বা এই পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছিলেন। এজন্য বইটির কলেবর খুবই সংক্ষিপ্ত। তাসাউফের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাঁর আরও দীর্ঘ কলেবরে লেখার ইচ্ছা ছিল । এজন্য রেফারেন্স হিসেবে অনেক বইও সগ্রহ করে রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর আকস্মিক ইস্তিকালে সেই কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। এটুকু অংশই ইতোপূর্বে পাক্ষিক তাবলিগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। এবারের সংস্করণে খসড়া পাণ্ডুলিপি হিসেবে তিনি যেভাবে সাজিয়েছিলেন, সেটুকুই সম্পাদনা করে প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্রসহ প্রকাশ করা হলো ।
তাসাউফ ও তরিকত সম্পর্কে সারা পৃথিবীর মতো এদেশের মানুষের মনেও অনেক আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলায় বিস্তর বই লেখা হয়েছে, কেউ পক্ষে লিখেছেন আবার কেউ বিপক্ষে। কিন্তু সেসব লেখার সিংহভাগেই নির্মোহ বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে ।
বইটির বৈশিষ্ট্য হলো এটা একেবারেই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে লেখা । তাই কোন জটিল তত্ত্বের অবতারণা বা দুর্বোধ্য আলোচনা এখানে আনা হয়নি। তবে বইটি যেন নির্ভরযোগ্য হয়, সেজন্য প্রচুর রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে । এসব থেকে আগ্রহী পাঠক তাসাউফ সম্পর্কে সাধারণ একটি ধারণার পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে অধ্যয়নের একটি নির্দেশনাও পাবেন ।
আব্বা জীবনের এক-তৃতীয়াংশই কাটিয়েছেন পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারায়- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে, সাহচর্য পেয়েছিলেন দেশবিদেশের অনেক সুফি শায়খের । এছাড়া তাসাউফে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মৌলিক চিন্তা বইটিকে ভিন্ন একটি মাত্রা দিয়েছে ।
উপমহাদেশের প্রথিতযশা সুফি ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. আলী হায়দার মুর্শিদী স্যার ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ স্যার তাঁদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে বইটির নজরে সানী করে দিয়েছেন । প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম ভাইয়ের হাত ধরে বইটি প্রকাশিত হচ্ছে। তাঁদের সবার প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ।
শত চেষ্টার পরও কিছু ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ করে আব্বা তথ্য নিয়েছিলেন, পুরনো আমলের তেমন কিছু বই আমি সংগ্রহ করতে পারিনি বলে যথাযথ
প্রফেসর ড. আবুল বয়ান মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান
সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য
প্রফেসর ড. আবুল বয়ান মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান (র.) ছিলেন এদেশের একজন বিশিষ্ট জালিম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক। তিনি ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৪ খ্রি. পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাওলানা হায়দার আলি ভূঁইয়া ছিলেন দেওবন্দের ফারেণ। তাঁর মা লতিফা খাতুনও আলিয়া মাদরাসা থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। এভাবে পারিবারিক পরিমণ্ডলে মায়ের কাছে। তাঁর শিক্ষাগ্রহণের শুরু।
স্থানীয় বিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়ার পর তিনি ছারছীনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন ।। সেখান থেকেই মাদ্রাসা শিক্ষায় প্রতিটি পর্যায়ে বোর্ড স্ট্যান্ড করে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। কামিল পরীক্ষাসহ এর পূর্ববর্তী পরীক্ষায় তিনি সারা দেশে প্রথম হয়েছিলেন। এরপর এইচএসসিতেও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তিনি এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। সেখানেও প্রথম বছরের পরীক্ষায়ও তিনি বিভাগে প্রথম হয়েছিলেন । ইতোমধ্যে সাউদি সরকারের বৃত্তি পেয়ে তিনি ১৯৭৪ সালে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানেও অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে বাংলাদেশী ছাত্রদের মধ্যে সর্বপ্রথম যুবরাজ ফাহদ পুরস্কার লাভ করেন ।
তিনি দেশে ফেরার পর ১৯৮৮ সালে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। কয়েক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "আল হুররিয়াতুদ দিনিয়াহ ওয়াল ইজতিমাইয়াহ ওয়াস সিয়ামিয়্যাহ ফিল ইসলাম' (Religious, Social & Political Libarty in Islam)' শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যাড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। অবশেষে ৭ মার্চ, ২০০৬ খ্রি. উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও ছানা মান্নাত মাদরাসার দুবার জানাযা শেষে ছারছীনায় পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয় ।
তিনি বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় শতাধিক মৌলিক ও অনূদিত প্রবন্ধ, নিবন্ধ • ছ রেখে গেছেন। তাঁর মৌলিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে 'ইসলামে ধর্মীয়, সামাজিক ও