করা জানোয়ারের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবার সমূহ ভয় ও বিপদ ছিলো। গণতন্ত্র অসুরদেরকে বেকায়দায় ফেলে দেয়, অসুরদের ভৈরবী নৃত্যের পা দু'টোকে ভেঙে দেয়। তাই গণতন্ত্র অনেক শক্তিশালী অসুরদেরকে অ্যারেস্ট করে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়। গণতন্ত্র শক্তিশালী অসুরদেরকে জেলখানায় পাঠিয়ে দিয়ে কিছুটা সম্মানও প্রদর্শন করে; সেই সম্মানপ্রদর্শনের নামটি হলো জেলখানায় ডিভিশন পাওয়া। তাই অসুরেরা গণতন্ত্রকে ভয় করে। অসুরেরা গণতন্ত্রকে ধর্মবহির্ভূত একটি নববিধান বলে ঘোষণা করতে চায়।
থাকে না। দ্বিতীয় নামটি হলো শয়তান। 'আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তোয়ানুর রাজিম' অর্থাৎ 'আল্লাহর আশ্রয় চাই সেই শয়তান হতে যে শয়তান প্রতিনিয়ত পাথরের আঘাত খেয়ে চলছে।' ইহাই হুবহু অনুবাদ। অনেকেই বিষয়টি অবগত না হয়ে 'বিতাড়িত' শব্দটি ব্যবহার করে। দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকার উদ্দেশে প্রতিনিয়ত যে কত প্রকার ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয় এবং এই ঘাত-প্রতিঘাতকেই 'পাথরের আঘাত খাওয়া শয়তান' হতে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, কোরান-এর কোথাও ‘আউজুবিল্লাহি মিনাল ইবলিসুর রাজিম' বা 'মরদুদুর রাজিম' বা ‘খান্নাসুর রাজিম' বলা হয় নি। তাই কোরান-এর ভাষার এবং শব্দের নিখুঁত গাঁথুনিগুলো বিজ্ঞানের বাবা বিজ্ঞানকেও চমকিয়ে দেয়। আবার *আত্তালেবুদ দুনিয়া মরদুদ' অর্থাৎ 'যারা কেবলই দুনিয়া চায় তারা মরদুদ'- এই বাক্যটিতে তথা কোরান-এর এই আয়াতটিতে আমরা 'আতালেবুদ দুনিয়া ইবলিস' বা 'শয়তান' বা 'খান্নাস’- শব্দ তিনটির একটিও পাই না। তাই কোরান-এর ভাষার এবং শব্দের নিখুঁত গাঁথুনিগুলো বিজ্ঞানের বাবা বিজ্ঞানকেও চমকিয়ে দেয়। তারপরে বলা হয়েছে ;
তাই যারা খান্নাসের আল পড়িয়ে দেবার প্রতিজ্ঞা নিয়ে একজন ঝানু সৈনিক। এই
চতুর্থ ও শেষটির নাম খান্নাস। এই চারটি শয়তানকেও পৃথিবীর কোনো স্থানেই অবস্থান করার অনুমোদন আল্লাহ দেন নি। এই চারটি শয়তানকে অবস্থান করার অনুমতি মাত্র দুইটি স্থানে দেওয়া হয়েছে। সেই দুইটি স্থানের নাম কী? একটি জিনের অন্তর এবং অপরটি মানুষের অন্তর। জিন এবং মানুষের অন্তর দুইটি বিহনে শয়তানের থাকার আর কোনো অনুমতি নাই। এই জিনের অন্তর এবং মানুষের অন্তরের বাহিরে যারা শয়তানকে খুঁজে বেড়ায় তাদের শয়তান বিষয়টিতে মুর্খ বলাই চলে। জিন এবং মানুষের অন্তরে শয়তানের অবস্থানটি- এবং আর কোথাও শয়তানের অবস্থানের অনুমতি আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয় নি। এটাই ইসলাম বিষয়ে ধারণা দেবার একটি বিশেষ ফর্মুলা। এই ফর্মুলাটি না জেনে কিছু একটা লিখতে গেলেই জানে না তাদেরই বা দোষ দেব কিসে? ভুল হবার সম্ভাবনাটি থেকে যায় এবং যারা এই শয়তানের থাকার ফর্মুলাটি
হয় 'মুসল্লি' ম যোগাযোগের প্রচেষ্টা। প্রায়, তাদেরকেই বাংলা মুসলমানিত্বের আনুষ্ঠানিক ধর্ম পালন এর চিন্তায় কূপমণ্ডুকতা মারির বৃত্তে পরিণত উভয় দলই জেহাদ ডামাডোল বাজিয়ে ছিলো নিছক যুদ্ধ, সাবিলিল্লাহ' শব্দটি স-মুক্তির জেহাদই মরণ নাই। ফানার তথা ফানাফিল্লাহর খন দুধ আর দুধ রতে গেলেই ধরা এর মতো। 'আনা , আসলে বিরাট ঘোল। বান্নাস- রুক আর না-ই মানুষই যদি থাকে না, তাই বলেন আর
আকাশ হতে শয়তানেরা সাধকদেরকে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করে। এই আকাশটি মনের আকাশ, চিত্তের আকাশ- সৌরমণ্ডলের আকাশ নয়। কারণ সৌরমণ্ডলের আকাশ তৌহিদে বাস করে। অনেকটা যেমন রুহুল কুদ্দুস অথবা রুহুল আমিন বলতে জাঁদরেল ইসলাম গবেষকেরা পর্যন্ত বিরাট ভুল করে ফেরেশতা জিবরিলের নামটি উল্লেখ করেন। আরেকটি ফর্মুলার আরেকটি সূত্র ভালো করে জেনে রাখা উচিত যে, কোনো ফেরেশতাকেই আল্লাহ নফ্স এবং রুহ দুইটির একটিও দেন নি অথবা আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয় নি। অনেকটা দুই চোখই অন্ধ, কিছুই দেখতে পায় না, বাপ-মা শখ করে কানা ছেলের নাম রেখেছে পদ্মলোচন- বলার মতো।
সৃষ্টিরাজ্য তৌহিদে বাস করে। তৌহিদের রাজ্যে শয়তানের প্রবেশ নিষিদ্ধ। জিন এবং মানুষের অন্তর দু'টিকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয়েছে। শয়তানের অবস্থান না থাকলে স্বাধীনতা থাকে না। তৌহিদে স্বাধীনতা নাই। এই স্বাধীনতা ভোগ করার দরুনই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। নফসের সঙ্গে খান্নাস যোগ হলেই নফ্স দূষিত হয়। পানির সঙ্গে জীবাণু মিশ্রিত হলেই পানি দূষিত হয়। খান্নাসযুক্ত নফ্স যে বাহ্যিক মানব সভ্যতাটি ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে সেই বাহ্যিক সভ্যতাটি মানব সমাজের বুকে কখনও আশীর্বাদ, কখনও অভিশাপ। খান্নাসযুক্ত নসের তৈরি অত্যাধুনিক বাহ্যিক সভ্যতা কিছুক্ষণের মধ্যেই পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। এটাকেই বলা হয় বাহ্যিক মুক্তি তথা ফেনোমেনাল এমানসিপেশন। এটাকেই বলা হয় মেজাজি মুক্তি। এই মেজাজি মুক্তিতে যে জাতি বেশি উন্নত, সেই জাতি বেশি মেজাজি ক্ষমতাধর। এই মেজাজি মুক্তি মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেজাজি কুসংস্কারগুলো ঝেঁটিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে মেজাজি শান্তি ও সভ্যতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যথায় জঙ্গলে বাস