এক
পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন হজরত মুসা আ.। বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন । কিন্তু উপায় নেই। এখনো যে তিনি মিশর রাজ্যের সীমানার মধ্যেই রয়েছেন। যে ভাবেই হোক, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এ রাজ্য ছেড়ে তাঁকে অন্য কোনো দেশে চলে যেতেই হবে।
ভয় হয়, হয়তো ফেরাউনের লোকলস্কর তাঁকে পাকড়াও করবার জন্য এদিক ওদিক বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও বিশ্রাম নেয়া যাবে না এখন। পেছনে পেছনে যদি এসে পড়ে সেপাই শাস্ত্রীর দল তখন আর রক্ষে নেই। ফেরাউন তাকে ক্ষমা করবে না কিছুতেই। নির্ঘাত মৃত্যুদণ্ডাদেশ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। হত্যার বদলে হত্যা। খুনের বদলে খুন ।
হজরত মুসা পথ চলেন দ্রুত। কিন্তু একটু পরেই আপনাআপনি চলার গতি শুথ হরে আসে। ক্রমাগত কয়েকদিন পথ চলার ক্লান্তি শরীরে। পা দুটো টন টন ara e ব্যথা। দু'দণ্ড জিরিয়ে নিতে পারলে শরীরটা চাঙ্গা হতো। কিন্তু তার কোনো উপায় এখন নেই। এতোটা পথ পালিয়ে এসেও যদি শাহী লক্ষরের হাতে বন্দী ।
শরীরটাকে কোনোরকমে টেতা নিম্নে পথ চলতে থাকেন হজরত মুসা। মিসর রাজ্যের সানা শেষ হতে এসেছে প্রায়। সীমানা পেরিয়ে অন্য এক রাজ্যের দানায় পা রাখে অনেকটা নিশ্চিত হলেন তিনি । না । এতদূর আর আসবার সিপাহীদের। ধরা পড়বার আর আর এখন নেই।
মমি /
দুই
এ রাজ্যের নাম মাদায়েল। একেবারে অচেনা এক রাজ্য। হজরত মুসা আগে কখনো আসেননি এদেশে। বিজন এক প্রান্তরে এসে বসে পড়লেন তিনি। সারা শরীর এখন অবসাদ আর শান্তির দখলে। মাটিতেই শুয়ে পড়তে হলো তাঁকে। তারপর কখন যেনো দুচোখ ভরে নেমে এসেছে গভীর ঘুম- বুঝতেই পারেননি।
ঘুম ভাঙলো এক সময় । সারা শরীর ব্যথায় ভরা। উঠে বসে কিছুক্ষণ ভাবলেন তিনি- এভাবে এই বিজন প্রান্তরে কতোক্ষণ যে ঘুমের মধ্যে কেটেছে কে জানে? ক্ষিধে পেয়েছে খুব। কয়দিন তো একরকম অনাহারেই কেটেছে বলতে গেলে। নিকটে কোনো জনবসতির চিহ্ন নেই। কিন্তু লোকালয় খুঁজে বের করতেই হবে যে। জোগাড় করতে হবে ক্ষুধার অন্ন। পিপাসার পানি। আশ্রয়ের ঠিকানা ।
মন যেদিকে চায় সেদিকেই যেতে হবে। আবার পথ চলতে শুরু করলেন হজরত মুসা। পাহাড়, প্রান্তর, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি- সবকিছু পেৱিয়ে যান তিনি একে একে। তবু কোনো লোকালয় চোখে পড়ে না ।
বেলা গড়িয়ে বিকেল হলো। হঠাৎ হজরত মুসা দেখলেন ঐতো খুব বেশী দূরে নয়- একটা গ্রাম নজরে আসছে। সেই গ্রামের দিকেই রওয়ানা হলেন তিনি । খুব বেশী সময় লাগলোনা সে গ্রামে পৌঁছতে। সন্ধ্যার আগেই গ্রামের এক প্রান্তে এসে উপস্থিত হলেন হজরত মুসা। আর এগোনো যায় না। বিশ্রামের জন্য সেখানেই বসে পড়লেন তিনি ।
কাছেই একটা বড় কুয়ো। কয়েকজন রাখাল সে কুয়ো থেকে পানি তুলে তাদের পশুগুলোকে পানি খাওয়াচ্ছে। কুয়োটাকে ঘিরে রীতিমতো ভীড় জমে উঠেছে রাখাল আর পশুদের। ছাগল ভেড়াগুলো সব ঠেলাঠেলি করে পানি পান করছে।
হজরত মুসা দেখালেন, ভিড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটি বালিকা। সঙ্গে তাদের কিছু ছাগল ভেড়া। পশুগুলো তৃষ্ণার্ত বোঝা যায়। বার বার পরলো কুদ্রের দিকে ছুটে যেতে চাইছে। আর বালিকা দুটো বার বারই ফিরিয়ে রামছে তাদেরকে
দেখলেই বোঝা যায়, পংগুলোকে পানি খাওয়াতে নিয়ে এসেছে বালিকারা । কিন্তু প্রচণ্ড ভিড়ের জন্য কুরোর কাছে ঘেঁষতে পারছে না।
/