প্রকাশকের কথামহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দুনিয়ায় মানুষ সৃষ্টি করেই ছেড়ে দেননি, সাথে সাথে তাদের পথ চলার জন্য যুগে যুগে নবী ও রাসুলগণের মাধ্যমে তাঁর বাণী বাহক কিতাব নাযিল করেছেন। বিশেষ করে শেষ না হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জন্য নিয়েছেন আল-কুরআন। মহান আল্লাহ বলেন : “এ এক বহু বরকত সম্পন্ন কিতাব যা (হে নবী) আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেন এই লোকেরা এর আয়াতগুলো সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞান-বুদ্ধি বিবেক সম্পন্নহতে সকল গ্রহণ করে।” (সূরা সাদ : ২৯) এ কুরআন সমগ্র বিশ্বে লোকের সামগ্রিক বিধান। সর্বকালের সর্ববিষয়াদি সম্পর্কে চূড়ান্ত সভা উপস্থাপক কিতাব। এ রচিত। যারা আরবী ভাষা জানেন না তারা এ কিতাবে মহান আল্লাহगान লिতে চেয়েছেন তা বুঝতে অক্ষম। তাই আল্লাহ্র কিছু বান্দাহ নিজ নিজ মাতৃভাষায় এ কুরআনের অনুবাদ ভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন আমাদের এই ভূখণ্ডে আল্লাহর একজন মনোনিত বান্দাহ মওলানা মুহাম্মान আরবী কিতাবের বাংলা অনুবাদ সর্বসাধারণের কাছে উপস্থাপনকরেছেন উর্দুগ্রস্থ তাফহীমুল কুরআন অনুবাদের মাধ্যমে।আমরা আল্লাহ্র বাণীবাহক আল-কুরআনকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে মওলানা আবদুর রহীম (রহ)-এর বঙ্গানুবাদের সাহায্য নিয়েছি। যাতে এ ভাষাভাষী মানুষ কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের কী উপদেশ নিয়েছেন তা সহজে জানতে পারেন। মওলানা আবদুর রহীম (রহ)-এর অনুবাদ সাধু ভাষায় লিখিত। আমরা তাঁর বাক্যের গঠন প্রণালী ঠিক রেখে সাধু ভাষাকে চলতি ভাষায় রূপান্তর করেছি মাত্র।আরবী ভাষার কুরআন তেলাওয়াতে যে সওয়াব পাওয়া যাবে তা এ বাংলা ভাষায় পড়ে পাওয়া যাবে না। তবে এ বঙ্গানুবাদ কুরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ কি বলতে চেয়েছেন তা জানা যাবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে মানুষ! আমরা তোমাদের প্রতি এমন একখানি কিতাব পাঠিয়েছি, যাতে তোমাদের কথাই উল্লেখ রয়েছে। তোমরা কি(সূরা আল-আম্বিয়া : ১০)পাঠক আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, কুরআনের এ বঙ্গানুবাদ পড়ে যেখানে সেখানে বুঝতে অক্ষম হবেন তা বুঝার জন্য যারা এ কুরআন অনুধাবনে পণ্ডিত ও বুঝতে সক্ষর দের কাছে যাবেন। নিজে নিজে কখনো মনগড়া বুঝ নিবেন না, তাহলে গুনাহগার হবেন। আশা করি আমাদের এ অনুরোধ রক্ষা করবেন।প্রকাশক
সূরা আল-বাকারাসূরা আল-বাকারা মাদানীআয়াত : ২৮৬, রু 180, সূরা নং ২1 দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে ।(১) আলিফ, লা-ম, মীम। (২) এটি আল্লাহ্ তা'আলার কিতাব, এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। এটি জীবন যাপনের ব্যবস্থা, সেই 'মুত্তাকীদের জন্য (৩) যারা গায়েবে (অদৃশ্যকে) বিশ্বাস করে, নামায কায়েম করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা হতে ব্যয় করে। (৪) আর যে কিতাব তোমার প্রতি নাছিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) এবং তোমার পূর্বে যেসব গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে, সে সবকেই তারা বিশ্বাস করে এবং পরকালের প্রতি তাদের সূচ বিশ্বাস রয়েছে। (৫) বস্তুত এ ধরনের লোকেরাই তাদের রব্ব-এর নিকট হতে অবতীর্ণ জীবন-ব্যবস্থার অনুসারী এবং তারাই কল্যাণ পাওয়ার অধিকারী (৬) যারা (পূর্বোক্ত কথাগুলো মানতে অস্বীকার করেছে, (হে নবী) তাদেরকে তুমি সতর্ক করো আর না-ই করো, তাদের পক্ষে উভয়ই সমান; তারা কখনই ঈমান আনবে না। (৭) আল্লাহ তাদের মন ও শ্রবণ-শক্তির ওপর 'মোহর' অঙ্কিত করে দিয়েছেন। এবং তাদের দৃষ্টিশক্তির ওপর আবরণ পড়েছে; বস্তুত তারা কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য ।২ রুকূ(৮) এমনও কিছু লোক রয়েছে যারা বলে, "আমরা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি”, অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা ঈমানদার নয়। (৯) তারা আল্লাহ্ ঈমানদার লোকদের প্রতারিত করছে মাত্র। কিন্তু মূলত তারা নিজেদেরকে প্রভাবিত করছে আর সে সম্পর্কে তাদের কোনো চেতনাই নেই। (১০) কাদের মনে একটা ব্যাধি রয়েছে, যে ব্যাধিকে আল্লাহ্ তা'আলা আরো বৃদ্ধি করে নিয়েছেন আর তারা যে মিথ্যা কথা বলে তার প্রতিফলস্বরূপ তাদের জন্য করুন। পীড়াদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে। (১১) তাদেরকে যখনি বলা হয়েছে। "তোমরা