যান্ত্রিকতার এ যুগে কোরান প্রদর্শিত পথে সমাজের নেতা বা সমাজ পরিচালকের স্বরূপ কেমন হবে তার বাস্তব উদাহরণ এ গ্রন্থ। নবিগৃহের অর্থাৎ নবির শিক্ষার আদর্শগত ঘরের অধিবাসীগণকেই বলা হয় আহ্লাল বাইত বা আহলে বাইত । কোরান রক্তের বংশধরকে কখনো বংশধর বলে স্বীকার করেন না বরং আদর্শের বংশধরকেই বংশধর বলে সম্মানিত করেছেন।
যাঁরা বিষয়বস্তুর আশ্রয় হতে মনকে ছিন্ন করে অর্থাৎ বিষয় মোহের বন্ধন ছিন্ন করে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নির্ভরতামুক্ত মহাজ্ঞানী সত্তায় উন্নীত হয়ে গেছেন তাঁরাই এতিম। এতিমগণ দেহ নিয়ে বসবাস করেও জগদ্বাসী থাকেন না, এতিমগণই হলেন বিশ্বের প্রকৃত মালিক।
অথচ আজকের দেহসর্বস্ব ভোগবাদী বিশ্বে তাঁরা চরমভাবে নিগৃহীত-অবহেলিত। আর এর জন্য আমরা সবাই দায়ী, বিবেকবোধের কাছে ধরাশায়ী। আমাদের কি এটা জানা উচিত নয় কোরান কে? রসুল কে? এ গ্রন্থ সে সব প্রশ্নের উত্তর যোগাবে।
৩২. হে নবির সর্বকালীন নারীগণ, তোমরা অসীম অখণ্ড নারীকুলের কাহারও মতো নহ; তোমরা যদি তাকওয়া করো তবে কথা দ্বারা (বা কথার সঙ্গে) দুর্বলতা (বা হীনতা) প্রকাশ করিও না; তাহা করিলে যাহাদের অন্তরে একটা ব্যাধি আছে তাঁহারা লোভ চরিতার্থ করিবে, এবং কথা বলো জ্ঞাতসারে ।
৩৩. এবং তোমরা তোমাদের (আপন আদর্শের) গৃহে অবস্থান লও (অথবা, বিশ্রাম গ্রহণ করো নিজ গৃহে), এবং পূর্বকার জাহেলিয়াতের (মূর্খতার) মতো বিস্ফারিত নয়নে (নারী তথা ধন সম্পদের প্রতি) তাকাইও না, এবং সালাত দাঁড় করো এবং জাকাত দাও, এবং আল্লাহ ও তাঁহার রসুলের অনুগত হও। তোমাদিগ হইতে, যাঁহারা আহ্লাল বাইত, তাহাদর অপবিত্রতা দূর করার জন্যই আল্লাহ এইরূপ ইচ্ছা করেন, এবং তোমাদিগকে একই পবিত্রতায় পবিত্র করিবার ইচ্ছা করেন।
৩৪ এবং যোগ লাগাও তাঁহার সঙ্গে আল্লাহর আয়াত হইতে এবং বিজ্ঞান হইতে যাহা তিনি তোমাদের ঘরের মধ্যে তেলাওয়াত করেন (অর্থাৎ বিশ্লেষণমূলক পাঠ করেন)। নিশ্চয় আল্লাহ একজন সূক্ষ্মদর্শী
