সাহায্য চাই
আমরা কোরানের প্রতিটি শব্দের হুবহু অনুবাদ এবং একটি শব্দের কত রকম অর্থ হতে পারে তাও তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। আপনারা কোরান- এর দশটি অন্যান্য অনুবাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, দেখতে পাবেন অনুবাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমরা এতটুকু সতর্কতা অবলম্বন করতে চেষ্টা করছি যে, কিছুতেই মনগড়া অনুবাদ করব না। যা কোরান এ আছে তা হুবহু তুলে ধরে পাঠক সমাজকে দেখিয়ে দিতে চাই যে, কোরান- এর অনুবাদেই কত গরমিল ! এই যতটুকু আমাদের পক্ষে সম্ভব সেইটুকু প্রচেষ্টা। অনেক অর্থব্যয়ে পৃথিবী বিখ্যাত আরবি ডিকশনারি এবং কোরান- এর লোগাতসমূহ সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেছি। যেমন- জে বি হাবা, হেপ ওয়েরি, মিলটন, স্টেফিংগাস এবং রহি বালবাকি প্রণীত আরবি ডিকশনারি পর্যন্ত কাছে রেখে খুব সাবধানে অনুবাদ করেছি। তারপর হুবহু বাক্য গঠ করতে চেষ্টা করেছি। তারপর সামান্য ব্যাখ্যাও দিতে চেষ্টা করেছি। কোরান-এর প্রতিটি সুরার এরকম অনুবাদ ও সামান্য ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন আছে বলে যারা মনে করেন এবং আমাদের অনুবাদ ভালো লেগেছে এবং এই অনুবাদের কিছুটা প্রচার হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা আমাদের আর্থিক সাহায্য দিতে পারেন অথবা জাকাতের একটি ক্ষুদ্র অংশ অথবা কোরবানির চামড়ার একটি ক্ষুদ্র অংশ দান করতে পারেন। আমরা ধ্যানসাধনা করার একটি স্কুল খুলেছি। সাধকেরা যেখানে মাসের পর মাস ধ্যানসাধায় মশগুল আছেন। সেই স্কুলের উন্নয়নের জন্য সাহায্য করতে পারেন কারণ, সমগ্র বাংলাদেশে এই হেরাগুহাকে কেবলা করে একটি ধ্যানসাধনার স্কুলের থানার জয়নগর ইউনিয়নের নৌকাঘাটা গ্রামে খেলা হয়েছে। আল্লাহ বলে ধ্যানসাধনার স্কুলটি দেখেও আসতে পারেন। মনে করিয়ে দিযে কাবার শরিয়ত, কিন্তু হেরাগুহায় মারেফত-এইপুর
বে আমাদেরকে দেখিয়ে গেছেন। কেউ বোঝে, ােকে না। গেজেটিতে তকদির না বোঝাটা তকদির।
পটি শুরুর আগে কিছু
ভাল্লাসের অস্তিত্ব আছে ?
যায়, যাবে? ধরে নিলাম খান্নাসের অস্তিত্ব নাই, কিন্তু শক্তির উপর শক্তি- এক মহাশক্তি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের মতো বিশ্বের মানুষগুলোকে খাল্লাসের হাতের মুঠোয় রাখতে পারে। এই খান্নাসি শক্তিকে ফেটিয়ে হিসাব করাটি সহজ কাজ নয়। তাই যারা খান্নাসের আসল পরিচয়টির মোটামুটি ধারণা নেবার পর তাকে তাড়িয়ে দেবার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ধ্যানসাধনায় মগ্ন হয়, তারাই জেহাদ করার একেকজন ঋা সৈনিক। এ জেহাদকেই জেহাদে আকবর বলা হয়। এ জেহাদের প্রথম ও প্রধান অস্ত্রটির নাম হলো 'দায়েমি সালাত' তথা অবিরাম যোগাযোগের প্রচেষ্টা। এই অবিরাম যোগাযোগের প্রচেষ্টা যারা চালিয়ে যায়, তাদেরকেই বাংলা ভাষায় 'যোগী' বলা হয়, আর আরবি ভাষায় বলা হয় 'মুসল্লি'। ভাষার ভিন্নতায় সাধারণ মানুষ হিন্দুত্ত্বের গন্ধ পায়, আবার মুসলমানিত্বের গন্ধও পায় । এই ভাগ বিভাজনে কাষ্ঠ প্রকৃতির মানুষগুলোই আনুষ্ঠানিক ধর্ম পালন করতে গিয়ে সংকীর্ণতার বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। গণ্ডির চিন্তায় কূপমণ্ডুকতা প্রকাশ পায় এবং এখান থেকেই মতভেদের বিন্দু মারামারির বৃত্তে পরিণত হয়। ক্রুসেডের যুদ্ধটি বোধ হয় এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। উভয় দলই জেহাদ নামের সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে জেহাদি জোশের ডামাডোল বাজিয়ে "জেহাদ করা হচ্ছে বলে প্রচার করেছিল। আসলে সেটি ছিল নিছক যুদ্ধ। মোটেও সেটি জেহাদ নয়। কারণ সেটির মধ্যে ফি সাবিলিল্লাহ' শব্দটি ছিলো না-থাকলেও মৌখিক, আন্তরিক নয়। খান্নাস-মুক্তির জেহাদই জেহাদে আকবর তথা সর্বশ্রেষ্ঠ জেহাদ। এ জেহাদে মরণ নেই। ফানার দেহটি দেহ বলেই মনে হয় আসলে সেটি নির্বাণপ্রাপ্ত তথা ফানাফিল্লাহর দেহ। সুখ হতে যেইমাত্র মাখন বের করে নেওয়া হয়, তখন দুধ আর মুখ থাকে না, স্থূল চোখে সেটি দুধই মনে হবে, কিন্তু পান করতে গেলেই ধরা পড়ে যায়। ধরা পড়ে যায় এটা ঘোল, কিন্তু দেখতে দুধের মতো। আনা বাশারুম মিসলেকুম'-এর রহস্যটি দুধ আর ঘোলের মতো, আসলে বিরটি পার্থক্য। একটি মাখন-মিশ্রিত দুধ, আরেকটি মাখন-উঠানো খেল। খাল্লাস- মুক্তির ধ্যানসাধনাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সমাজ একে গ্রহণ করুক আর করুক, কিন্তু এটি নিছক ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সমাজের সব মানুষই মান্নাসমুক্ত হয়ে পড়ে তা হলে আর আল্লাহর পরীক্ষাটি থাকে না। সুরিরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনগুলোকে মেজাজি বলেন ভা অপরদিকে পান্নাসমুক্তির ধ্যানসাধনাটিকে হাকিকি বলেন
আজ হতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে জমদগ্নি মুনি সুফিবাদের যে অমৃত বাণীটি ঘোষণা করে গেছেন সেই একই বাণী ইহুদি ধর্মের সুফি, খ্রিস্টান ধর্মের সুফি এবং সবশেষে ইসলাম ধর্মের সুফিদের কণ্ঠে : এক, অখণ্ড, অদ্বিতীয়, অদ্বৈত দর্শনটি প্রতিফলিত হয়েছে। সুফিবাদের একমাত্র মূল বিষয়টি হলো: আপন নফক্সের সঙ্গে, আপন প্রাণের সঙ্গে, আপন জীবাত্মার সঙ্গে যে-খান্নাসরূপী শয়তানটিকে পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে সেটি হতে মুক্তিলাভ করা। এ মুক্তির প্রশ্নে প্রয়োগপদ্ধতির বিভিন্নতা থাকতে পারে, বাক্যের শৈলীর অবগুণ্ঠনে চাকচিক্য থাকতে পারে, বিভিন্ন রকম কথা-বর্ণনা-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু মূল দর্শনে আপন নক্সটিকে খান্নাসমুক্ত করা; কারণ আপন নক্সের অভ্যন্তরে খান্নাসটির অবস্থানই বিতর্কিত বহু মতবাদ, দর্শন, সাহিত্য, কবিতা যুগে যুগে রচনা করে গেছে। সুতরাং ফেনোমেনাল সিভিলাইজেশন তথা আপাত দর্শনীয় সভ্যতার জনকটি হলো খান্নাসরূপী শয়তান। খান্নাসের বিরুদ্ধে যত রকম কথা, যুক্তি প্রদর্শনই থাক না কেন, অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে খান্নাস থাকবেই। যেদিন খান্নাসের অস্তিত্বটি হারিয়ে যাবে সেদিন ফেনোমেনাল সিভিলাইজেশন তথা বিত্ত-বৈভবের তথাকথিত সভ্যতাটিও হারিয়ে যাবে। বিবর্তনবাদের ধাপে ধাপে খান্নাসও রঙ-রূপ বদলিয়ে বদলিয়ে অগ্রসর হয়।
মানুষের মন হতে সকল প্রকার বক্রতা ও বিভ্রান্তির জটাজালগুলো ঝেড়ে ফেলে দেবার আহ্বানটি জানানো হয়েছে পবিত্র ঐশী গ্রন্থে। এ বক্রতা, এ বিভ্রান্তির জটাজালগুলো কেমন করে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে মুক্ত হওয়া যায়? এটি কথার কথায় মনে হয় অতি সহজ, কিন্তু প্রয়োগের প্রশ্নে এটি একটি যুক্ত করার মতো জটিল সমস্যা বলে মনে হবে। কেন? এই বিভ্রান্তি এই জটিলতা মনের মাঝে কে জাগিয়ে তোলে? কে বক্রতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়? কে বিভ্রান্তির জটাজালে মানুষটিকে আষ্টেপৃষ্টে
