আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন। কুরআনে যার আনুগত্য ও মুহাব্বত করার জন্য বারবার তাগিদ করা হয়েছে।
কুরআন শরীফের সূরা হুজুরাত এর ১ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللهِ وَرَسُولِهِ 3 অর্থাৎ 'হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না।' এছাড়া সূরা হুজুরাত এর ৪ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন یا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ বিশ্বাসীগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না।' উল্লেখিত আয়াতদ্বয় হতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমাদের আদব রক্ষা করতে হবে।
কিন্তু ওহাবীরা তাদের কাজে-কর্মে ও লেখনীতে এ আদব মেনে চলে না। বরং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে এমন মারাত্মক উক্তি করে, যা কুরফীর শামিল।
ইতিপূর্বে আমার লেখা 'ওহাবীদের আসল পরিচয়' গ্রন্থখানি পাঠক মহলে ব্যপক সমাদৃত হয়েছে। মানুষ যে সত্যকে গ্রহণ করেছে সেজন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ। ওহাবীদের আকিদা নিয়ে 'ওহাবীদের আসল পরিচয়' গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি। এখন এই গ্রন্থে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে ওহাবীদের আকিদাগুলো একত্র করে তা খন্ডন করে ওহাবীদের চৈতন্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই গ্রন্থটির নাম দিয়েছি ওহাবীদের চৈতন্য দান
চৈতন্য হলো চেতনা বা জাগ্রত করা। যেমন ঘুমন্ত মানুষ বা চেতনাহীনকে জাগ্রত করা হয়। তেমনিভাবে ওহাবীরা তাদের অন্তরে ওহাবী মতবাদের আধাঁরে ডুবে আছে। তাই তাদের চৈতন্য দান করা দরকার। ওহাবীরা তাদের বিভ্রান্তি মতবাদের মধ্যে এমনভাবে বিভোর হয়ে আছে যে, নিজেরদেরকে সঠিক বলেই ভাবছে। এতেই বোঝা যায় যে, তারা এখনও চেতনাহীন। সেই বিভ্রান্তির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসতে চেতনার ওষুধ দরকার। আশা করি এই পুস্তকের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তা ওহাবীদের ওহাবীয়াত দূরীকরণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।
গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে ধন্যবাদ জানাই শরীয়তপুর জেলাধীন সখিপুর থানার মাসুমীয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মুফতী মোস্তার রেযা মাসুমী আল উসমানী সাহেব, কাজীশাল দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মুফতী সৈয়দ জাকারিয়া উদ্দীন জিলানী সাহেব ও সাদ্রা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ড. মুফতী খাজা বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী সাহেবকে। তাদের নিকট থেকে গ্রন্থখানি রচনায় অনেক সাহায্য পেয়েছি এবং তাঁরাই গ্রন্থখানি সম্পাদনা করেছেন।
গ্রন্থটি নিরপেক্ষ মনে পাঠ করার অনুরোধ রইলো। আশা করি তাহলেই সত্য বুঝতে সহজ হবে। হয়তো কারো অনেক দিনের লালিত আকিদা ছাড়তে কষ্টও হবে এবং চিন্তাও হবে যে, লোকজন কি বলবে। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সত্য পথে আসতে কোন লোক লজ্জার ভয় প্রাধান্য না দেওয়াই ঈমানের পরিচয়। অনেকে আমার উপর কিছুটা রাগান্বিতও হবেন। কারণ এতদিনের লালিত আকিদা যে ভুল, তা হয়তো অনেকেই সহজে মেনে নেবেন না। আশা করি তারা বিরোধীতা না করে সত্যকে গ্রহণ কবেরন।
পরিশেষে আমি সকলের নিকট দুআর দরখাস্ত জানাই যেন আমরা সকলেই যেন সঠিক আকিদায় জীবন যাপন করাতে পারি। আর গ্রন্থটি প্রকাশে শব্দগঠন, বানান ইত্যাদি কাজে ভুল থাকা কোন অসম্ভব কিছু নয়। সে ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ রইলো। পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন ইনশাল্লাহ। করবো প্রয়োজনে ronychisty@yahoo.com ঠিকানায় ই-মেইল করলে খুশি হবো।
