رائد الرحمن الرحيم
আরজ গুজারেশ
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহীল কারীম
আম্বিয়া ও আউলিয়া প্রভৃতি আল্লাহর প্রিয়পাত্রগণ কঠোর সাধনার ফলে এমন সব অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হন, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভবপর ন, এমন কি স্বচক্ষে না দেখলে সে সকল আশ্চর্য ঘটনার কথা অনেক সময় অনেকের পক্ষে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তথাপি আম্বিয়াদের মু'জিজা ও আউলিয়া কেরামের কারামত যে সত্য, তদ্বিষয়ে কোনই সন্দেহ নাই। যেহেতু তাঁরা ঐশী শক্তির বলে যা ইচ্ছা, তাই করতে
সক্ষম হয়ে থাকেন।
ফলতঃ এ সকল কার্যে নিজেদের কোন কৃতিত্ব নাই তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাই এসব অলৌকিক কার্য সংঘটিত করে থাকেন। তবে এই বিষয়ে আম্বিয়া ও আউলিয়া কেরামের বাহাদুরী এই যে, তাঁরা কঠোর সাধনার যারা আল্লাহ তায়ালার এতদূর প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন যে, তাঁদের কোন বাসনা যা প্রার্থনা আল্লাহ তায়ালা অপূর্ণ রাখেন না। সেজন্য তাদের মুখে এমন বরকত প্রদান করেন যে, তাঁরা মুখ দিয়ে যা বলেন বা অন্তরে যা কামনা করেন, আল্লাহ তায়ালা ভাই বাস্তবে পরিণত করে দেন। সুতরাং আম্বিয়া ও আউলিয়া কেরামের মু'জিজা ও কারামত অস্বীকার বা অবিশ্বাস করলে প্রকারন্তরে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতাকেই অবিশ্বাস করা হয়।
"মু'জিজায়ে আম্বিয়া ও কারামতে আউলিয়া' গ্রন্থে বিশিষ্ট নবী, অলীআল্লাহগণের বিভিন্ন কারামত ও মু'জিজার ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে হয়েছে। সূফী সাধকগণের জীবন সম্বন্ধে যেমন এর দ্বারা অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে, তেমন সর্বকালে ইসলাম জগতে অত্র কিতাবখানা ওয়াজ- নসিহতের শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী পুস্তকরূপে বিবেচিত হবে, এতে কোন সন্দেহ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর মু'জিজা
হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর জীবনের শেষভাগে একদিন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম এসে তাঁকে বললেন-হে আবুল বাসা! আপনি মৃত্যুর পূর্বে আর একবার মক্কায় যেয়ে হজ্জ করে আসুন ।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম জিবরাইল ফেরেস্তার মুখে মৃত্যুর কথা শ্রবণ করে ভয়ে থর থর করে কাঁপতে লাগলেন। তৎপর সুস্থ হয়ে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন।
কিতাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম হিন্দুস্থান হতে মক্কায় গমনের পথে যে যে স্থানে পা ফেলেছিলেন, ঠিক সেই সেই স্থানে এক একটি গ্রাম এবং যে যে স্থানে বসে বিশ্রাম করেছিলেন, সেই সেই স্থানে এক একটি শহর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং হযরত নূহ নবী আলাইহিস সালাম-এর সময়ের মহাপ্লাবন পর্যন্ত ঠিক সে ভাবেই গ্রাম ও শহর প্রতিষ্ঠিত ছিল। মহাপ্লাবনের পরে অবশ্য নূতনভাবে পুনরায় গ্রাম ও শহর প্রতিষ্ঠিত হয় ।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম মক্কার নিকট উপস্থিত হলে আসমান হতে ৭০ হাজার ফেরেস্তা অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা করে মক্কায় নিয়ে গেল। তারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম-কে বলল-আমরা দুই হাজার বৎসর পূর্ব হতে এই পবিত্র গৃহের তাওয়াফ করে আসছি। তখন এই পবিত্র গৃহের নাম ছিল বায়তুল মামুর। চতুর্থ আসমানে ফেরেস্তাদের নামাজের জন্য একটি মসজিদ আছে, উহার নাম বায়তুল মামুর। ঠিক উহারই নিম্নে অবস্থিত বলে এই গৃহটিকেও বায়তুল মামুর নামে অভিহিত করা হয়েছিল।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর মক্কা শরীফে হজ্জ সমাপন করবার পর জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁকে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে গেলেন। তথায় উপস্থিত হয়ে জিবরাইল আলাইহিস সালাম স্বীয় পালক দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস সালামের পৃষ্ঠদেশে ঘর্ষণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পৃষ্ঠদেশ হতে কোটি কোটি মানব সন্তান নির্গত হয়ে বিশাল আরাফাতের ময়দান পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তিনি এই আশ্চর্য্য ব্যাপার দেখে জিবরাইলকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে ভাই জিবরাইল। এর কারা?
জিবরাইল আলাইহিস সালাম উত্তর করলেন- এরা সকলেই আপনার বংশধরের রুহ বা আত্মা।