মসনবী শরীফের শাব্দিক অনুবাদের প্রথম খণ্ডটি গত বৎসর পহেলা বেশাখ ১৪১৯ বঙ্গাব্দে আমরা পাঠকদের হাতে তুলে দিই। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম প্রকাশনার বইগুলো নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর আবারো পুনঃমূদ্রণ করা হয়। এবং মোবাইল ফোনে প্রতিদিন পাঠকদের কাছ থেকে পরবর্তী খণ্ড প্রকাশের অনুরোধ আসতে থাকে। এর সাথে পাঠক পাঠিকারা মসনবী শরীফ প্রথম খণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মসনবী শরীফের শব্দে শব্দে অনুবাদ হওয়ার কারণে তারা বাজারে প্রচলিত বাংলা অনুবাদ গুলোর যে গোঁজামিল দেওয়া ভুলে ভরা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা গুলোকে মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ পেয়েছেন এবং এই অনুবাদ গুলো যে তাদের মনগড়া অনুবাদ ও ব্যাখ্যা, যা সুফিবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় সেটা বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয়। এ কারণে পাঠকদের নিকট অধম লেখক চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের আগ্রহ এবং উৎসাহের কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় খণ্ডের কাজটি আরো ভাল ভাবে সমাপ্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যার অপার কৃপায় এই সুকঠিন কাজটি সমাপ্ত করার চেষ্টা করছি, তিনি আমার মুর্শিদ বর হক মোফাচ্ছেরে জামান আল্লামা শাহ্ সুফি ওলিয়ে কামেল পীরে মোকাম্মেল চেরাগে জান শরীফ ডা. বাবা জাহাঙ্গীর ইবনে হেলাল আল সুরেশ্বরী বাবাজান। বাবাজানের উৎসাহ উদ্দীপনায় এবং তাঁর আত্মিক দিক নির্দেশনায় এই কাজটি সমাপ্ত করা সহজ সাধ্য হয়েছে বলে অধমের বিশ্বাস। এছাড়া অন্যান্য সকলের সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় কাজটি সম্পাদন করতে পারায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কিছু জানা-অজানা কুথা পাঠকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে চাই। তুলে ধরতে চাই এ কারণে যে, কিছু মিথ্যা কথা বার বার শুনতে শুনতে যেমন সত্যের মত শোনায়, ঠিক সে রকম ভাবে একটি সত্যকেও বার বার মিথ্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হলে সেটাও মিথ্যার মত মনে হয়। কিন্তু সেটা মিথ্যা হয়ে যায় না। আবার মিথ্যাকেও যতই প্রসাধনী প্রলেপন দেওয় হোক না কেন, সেটি মিথ্যাই রয়ে যায়। অনেকটা শামুকের মতো, শামুক
যখন খোলসের ভিতর লুকিয়ে থাকে তখন দূর থেকে বোঝা যায়না যে
শামুকটি জীবিত না মৃত। কিন্তু যখন হাতে নিয়ে পরখ করা হয় তখন
বোঝা যায় যে সে মৃত না জীবিত। গত এক বৎসর পদ্মা মেঘনা যমুনার
অনেক জল গড়িয়েছে। যার হিসাব কোন দিন কেহ বের করতে পারবে
কিনা তা ভবিষ্যতেই জানা যাবে। বর্তমানে জানা সম্ভব কিনা জানি না।
কিন্তু রাজনীতির নামে এবং ধর্মের নামে যে অগণিত মানুষ এবং
সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তার হিসাবটি মোটামুটি করা সম্ভব হবে বলে
অধমের বিশ্বাস। এদেশে গত এক বৎসরে অসংখ্য মানুষ খুন হয়েছে
রাজনীতির কারণে, ধর্মের কারণে এবং হরতালের মত গণতান্ত্রিক
অধিকারের নামে। আর ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদীদের উগ্র আচরণে ধ্বংস
হয়েছে ক্ষুদ্র ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মন্দির, উপসনালয়। তাদের ঘর বাড়িতে
এবং সম্পদে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণার পর যে তাণ্ডব শুরু
হয়েছে তা এখনো থামেনি। কখন যে থামবে তা একমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল
আলামিনই ভালো বলতে পারেন। কারণ এ নিয়ে আজ সারা দেশের
জনগণ দু'ভাগে বিভক্ত। এক স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এবং দুই
স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। আজ দু'পক্ষই অনেকটা মুখোমুখি এসে
দাঁড়িয়েছে যা এতদিন ইঁদুর বিড়ালের লুকোচুরিতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই
লুকোচুরি খেলার এক পর্যায়ে এসে ইঁদুর এবং বিড়াল মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
গেছে। সামনে কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। এর মাঝে
লুকিয়ে থাকা উগ্র মৌলবাদী একটি গোষ্ঠী যারা এদেশে সুদীর্ঘ ষাট-সত্তর
বৎসর যাবৎ ইমিটিশন গোেল্ড এর মত লুকিয়ে ছিল। তারা হঠাৎ গত তিন
বৎসর আগে নিজেদের লোহার অবস্থানটি ঘোষণা করে জনসম্মুখে
প্রকাশিত হয় গত কয়েক দিন আগে এবং জানিয়ে- দেয় যে তারা গোল্ড
নয়। তারা যে কাঁচা লোহা সেটা কিছুটা হলেও প্রকাশিত হয় সাধারণ
মানুষের কাছে। সাধারণ মানুষ বিগত ষাট বৎসর যাবৎ এদেরকে খাঁটি
গোল্ড হিসাবেই বিবেচনা করতো।
