লাভ বেইলির সার্জারি বইতে অনেক উলঙ্গ নারী-পুরুষের ছবিকেযেমন অশ্লীলতার ছকে ফেলার প্রশ্নই উঠতে পারে না, তেমনিএলমে মারেফতের রহস্যপূর্ণ কথাগুলোকে উপেক্ষা করা
অথবা
অবজ্ঞা প্রদর্শন করার প্রশ্নও উঠতে পারে না। ভেঙে ভেঙে ব্যাখ্যাকরে যুক্তির ধারালো তরবারির উপর দিয়ে হেঁটে চলার অভ্যাস হল
বিজ্ঞান, দর্শন এবং অধ্যাত্মবাদের। এখানে গোঁড়ামির স্থূলতাকে
দেয়ালরূপে দাঁড় করাতে চাইলে পিছিয়ে পড়তে হয় মনের
অজান্তে। কিছুদিন পরই একটি জাতি তখন ভদ্র ভিক্ষুকের জাতিতে
পরিণত হয় আপন নিয়মের পরিণতিতে। কারণ, ইতিহাস একদিনে
তৈরি হয় না। তাই যারা কেবল নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে জানাবার
অভ্যাস করার মত মারাত্মক নেশায় নেশাগ্রস্ত, সেই জাতিকে সভ্য
জাতির হাসপাতালে স্যালাইন নেবার জন্য তাড়াতাড়ি ভর্তি হতে
হয়। আসুন, উদার মনে গবেষণা চালাই আমরা। এই গবেষণার
আসল-নকলের উপর দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হয়।
হাঁটতে শেখার সময় আছাড় খাওয়া নিষিদ্ধ, যারা বলতে চায়
তাদেরকে কী ভাববেন? সাঁতার কাটতে গেলে 'পানি পান করা
বারণ' বলা বোকামির লক্ষণ। এতে গবেষণার মাথায় আঘাত
লাগে। স্থবিরতা টেনে আনে পঙ্গুত্ব। তাই সর্বপ্রথম মনে করতে হবে
যে, গবেষণা গবেষণাই। যে জাতি এই গবেষণাকে ঘৃণা করে সে
জাতি নিজেকেই করে ঘৃণা; অথচ মস্ত একটা কাজ করে ফেললাম
বলে হি হি করে তৃপ্তির হাসি হাসে। বিলাপের বোবা কান্না যে এই
হাসির অতি কাছেই বিচরণ করছে সেটা ইতিহাস একদিন তুলে
ধরে। কারণ, অনুষ্ঠানগুলো যখন আসল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভুলিয়ে
দিতে থাকে, তখন সেই অনুষ্ঠানগুলোকেই বোঝা এবং ফালতু মনে
হয়। প্রতিবাদের প্রাচীর দাঁড় করিয়ে জ্ঞানীদের মুখ জোর করে বন্ধ
করে দিতে চাইলেই জন্ম হয় নাস্তিক্যবাদের। লাশ ফেলে রাখলে
পচন আর পোকার আগমন অবধারিত। এটা যদি অস্বীকার করতে
চান তাহলে সমস্ত পরিবেশের বাঁধনগুলোর স্বীকৃতির সুর সঙ্গীত
বেজে উঠবে। ঠুমরি-কেদারার এলিয়ে পড়া সুরে নয়, বরং বিপ্লব-
বিদ্রোহের ভয়াবহতায়।
