মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের ভাব জগতের বিবরণী সমৃদ্ধ গান-কবিতা যে সকল সুফি ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে তাদের এ হলেন হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ বজলুল করিম সম্পর্কিনী (রহ.)। ১৯৯৯ সালে এই মহৎ সৃষ্টিশীল প্রতিভার 'শেষ জীবন' গানের বই প্রকাশ করে মাইজভাণ্ডারী সঙ্গীত বিষয়ে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করি। ২০১১ সালে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট ( এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট গঠিত হলে ইসলাম ধর্ম এবং জীবনদর্শন মাইজভাণ্ডারী জীবনবোধ ও দর্শন ভিত্তিক গবেষণা, অনুবাদ, বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (দ.) স্মরণে ১২ রবিউল আওয়াল উপলক্ষ্যে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক সমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মহান ১০ মাঘ মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (ক.), বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) স্মরণে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে যুগ চাহিদা অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম এবং মাইজভাণ্ডারী ভাবাদর্শ প্রচারে সচেষ্ট থেকেছি। গবেষণা ও অনুবাদ সংক্রান্ত কাজে গতি সঞ্চারের নিমিত্তে ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন 'মাইজভাণ্ডারী একাডেমি'র তত্ত্বাবধানে প্রকাশনা শাখা 'আলোকধারা বুকস' গঠন করে মাইজভাণ্ডার সম্পর্কিত তত্ত্ব-তথ্য জগতে নিত্য নতুন সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের সমাজ জীবনে কবিগান, জারী-সারি গান, পুঁথি পাঠ, পালা গান, লোক নাট্য, গীতি নাট্যের প্রভাব সুপ্রাচীন। সারাদিনের কর্ম ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষ সন্ধ্যা পরবর্তী সময়ে বিনোদনের প্রত্যাশায় উপর্যুক্ত অনুষ্ঠানসমূহে সমবেত হয়ে আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করতেন। স্রেফ বিনোদনমুখী অনুষ্ঠানে আনন্দ উপভোগ করা গেলেও উপলব্ধির বিষয় অনেকাংশে শূন্যই থাকত। হুজুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গণমানুষের বিনোদনমুখি তৎপরতা এবং প্রয়োজনীয়তাকে জীবন প্রবাহের চাহিদা হিসেবে মূল্যায়নে রেখে এ ধরনের উৎসবী কর্মধারাকে আল্লাহ্র ইবাদতের সঙ্গে সংযুক্ত করতে উদ্যোগী হয়ে উঠেন। তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে আসা গুরুদাস ফকির, সাধক কবি সৈয়দ আবদুল হাদি (রহ.), সৈয়দ আবদুল গণি কাঞ্চনপুরী (রহ.) সহ কিছু কিছু লোককবি
মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী : মাইজভাণ্ডারী গান সমগ্র
শহরী" গীতিকাব্য। বার্মায় অবস্থানকালে সেখানে রাজনীতি ও মজলুম-শ্রমজীবি মানুষকে নিয়ে লিখেন, 'জাগরণী সঙ্গীত চট্টগ্রামবাসীদের নিয়ে তিনি নিয়মিত সামা মাহফিলের আয়োজন মাওলানা সৈয়দ আমিনুল হক হারবাংগিরী (রহ.)'র মতো খ্যাতিমান করতেন। তাঁর আয়োজিত মাহফিলে জাফর শাহ্ আরকানী এবং আউলিয়া কেরামসহ অনেকেই সমবেত হতেন। মাইজভাণ্ডারী গান এবং নাত, গজলের বেশির ভাগ তিনি বার্মায় অবস্থানকালে রচনা করেন। তাঁর গানসমূহে বেখুদী এবং কলন্দরী ভাব অধিকতর ব্যঞ্জনায় ব্যক্ত হওয়ায় বার্মা থেকে ১৯৪০ সালে দেশে ফেরার পথে সঙ্গীদের কেউ কেউ বেশ কিছু গান সমুদ্রে নিক্ষেপ করে ফেলে দেন।
সুফি জগতে বিচরণের পাশাপাশি সাধন সঙ্গীত রচনার মাধ্যমে অকৃত্রিম খোদাপ্রেম তত্ত্বের সত্যবাণী প্রকাশে পরম সাহসিকতা প্রদর্শন শাহ্ সুফি মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)'র পরিচিতি এবং লোকপ্রিয়তা বাড়িয়েছে অনেকগুণ। সঙ্গীত রচনার ক্ষেত্রে তিনি আল্লামা রুমী (রহ.)'র প্রেমধারা, হাফেজ সিরাজী (রহ.)'র হামাউস্তমুখি প্রেরণা, ওমর খৈয়ামের আত্মবোধন, শেখ সাদী এবং জামী (রহ.)'র ফরিয়াদী ব্যঞ্জনা অনুশীলন করে মাতৃভাষা বাংলার মাধ্যমে তাসাওউফ ভাবনাকে সর্বসাধারণের বোধনযোগ্য করে তুলেছেন। প্রকাশ্য ধর্মাচারের মাধ্যমে রিয়া' প্রদর্শনকে নিরুৎসাহিত করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অহংবোধ বিসর্জনকে উৎসাহিত করেছেন। এ জন্যে নিজকে নিঃস্ব-অসহায় ভাবনায় বিনীত
করে করুণ কণ্ঠে ফরিয়াদ করেছেন,
দ্বারেতে ভিখারীর আগমন রে, ভাণ্ডারী ধন রে,
দ্বারেতে ভিখারীর আগমন ।।
রাজপুরীর দ্বারদেশে, রাজভিক্ষা পাওয়ার আশে, ইল্লাল্লা হুঙ্কারে ধনে মন।। রে..... ভিক্ষুকেরে ভিক্ষা দান
করি কর রক্ষা প্রাণ,
ভিক্ষা চাহি তোমারি চরণ।। রে..
ওলানা সৈয়দ বজলুল করিম : ইজভাণ্ডারী গান স